Sunday, 15 February 2026 • 6:54 PM

উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা – উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা

February 8, 2026 👁️ 12

নির্বাচনের আয়োজন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সারা দেশে উৎসাহ-উদ্দীপনা, শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ পরিবেশে নির্বাচনের প্রচার চলছে। কেউ কারও বিরুদ্ধে কটুকথা বলছে না। অভদ্র আচরণ হচ্ছে না। আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সংস্কৃতির জন্য এটা খুবই ইতিবাচক পরিবর্তন। এখন পর্যন্ত প্রস্তুতিপর্ব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখন আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ ভোটটা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা। আগামী এক সপ্তাহ খুবই ক্রুশিয়াল। গতকাল সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচনসংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। বৈঠকে নির্বাচনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করা বিভিন্ন বাহিনী, নির্বাচন কমিশন ও সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে নির্বাচনের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন, সামনের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ পর্যন্ত যে কাজগুলো সম্পন্ন হয়েছে তার হালনাগাদ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা আগামী এক সপ্তাহকে খুবই ক্রুশিয়াল মন্তব্য করে বলেছেন, এখন পর্যন্ত প্রস্তুতিপর্ব নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। এখন মূল চ্যালেঞ্জ ভোটটা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা। প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেছেন, ভোট উৎসবমুখর হবে। নিরাপদ হবে। নারীরা আনন্দের সঙ্গে ভোট দেবেন। পুরো পরিবার একসঙ্গে ভোট উৎসবে যোগ দেবে এবং এ ভোট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বৈঠকের আলোচ্য বিষয় তুলে ধরে শফিকুল আলম বলেন, পুলিশকে বডি ওর্ন ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে প্রায় ৪৩ হাজার ভোট কেন্দ্র। তার মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০ বডি ওর্ন ক্যামেরা দেওয়া হচ্ছে। এ ক্যামেরা কীভাবে কাজ করছে সেটা বৈঠকে দেখানো হয়। বৈঠকে থেকেই প্রধান উপদেষ্টা পাঁচটি জায়গায় যারা বডি ওর্ন ক্যামেরা বহন করছিলেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তেঁতুলিয়াতে কথা বলেছেন। খাগড়াছড়িতে কথা বলেছেন। আরেকটি বিষয় ছিল- নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ। এটা পুরোপুরি চালু হয়ে গেছে। এটা ব্যবহার করবেন নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। কোনো নির্বাচন কেন্দ্রে ঝামেলা হলে এই অ্যাপের মাধ্যমে সিকিউরিটি ফোর্সের কাছে দ্রুত বার্তা চলে যাবে। রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন কমিশনের কাছেও বার্তা চলে যাবে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের সচিব নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে হালনাগাদ তথ্য জানিয়েছেন। বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধানরা তাদের বাহিনীর সদস্য নিয়োগ সম্পর্কে জানিয়েছেন। নির্বাচনে বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখের মতো সদস্য নিয়োগ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৮ হাজার ৮৮৫ জন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্য ইতোমধ্যে নিয়োগ হয়ে গেছে। ১ হাজার ২১০টি প্লাটুনে বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন নিয়োগ হয়েছে। কোস্টগার্ডের ১০টি জেলায় ২০টি উপজেলার ৬৯টি ইউনিয়নে ৩ হাজার ৫৮৫ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ নিয়োগ হবে ১১ তারিখ সকালে। পুলিশ থাকবে ১ লাখ ৫৭ হাজার। এ ছাড়া ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৬ জন আনসার সদস্য মোতায়েন হবে আজ। র‌্যাব সদস্যদের মোতায়েন সময়মতো শুরু হয়ে যাবে।

প্রেস সচিব জানান, নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক থাকছেন প্রায় ৪০০ জন। দেশি পর্যবেক্ষক থাকছেন প্রায় ৫০ হাজার। ১২০ জনের মতো বিদেশি সাংবাদিক নির্বাচন কাভার করবেন। ‘নির্বাচন বন্ধু’ হটলাইন নম্বর ৩৩৩ চালু করা হয়েছে। নির্বাচনসংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ, খবর জানতে এই নম্বরে ফোন করে জানা যাবে ও জানানো যাবে। ৮০ ভাগ সিসিটিভি ইনস্টল করা হয়েছে। বডি ওর্ন ক্যামেরা ২৫ হাজার ৭০০ ইতোমধ্যে ইনস্টল হয়েছে। ৪৩ হাজার কেন্দ্রের সব গোয়েন্দা নজরদারিতে এসেছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের বিষয় নিয়মিত হালনাগাদ হচ্ছে। নির্বাচনে ভুয়া পর্যবেক্ষক (পাশা) নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রসঙ্গে উপ প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছে। তাদের সক্ষমতার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে না পারায় তাদের পর্যবেক্ষণ কার্ড স্থগিত করা হয়েছে। তাদের ব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে।

নির্বাচনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তাঝুঁকি প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি নেই। শুক্রবার ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার বিষয়ে ডিএমপিকে প্রশ্ন করতে বলেন তিনি। শফিকুল আলম বলেন, বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সচিব জানিয়েছেন, ২৯৯টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে। শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ২৯৯ আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৯ জন। রাজনৈতিক দলের মোট প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৪ জন। নারী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ৮৩ জন। এর মধ্যে দলীয় ৬৩ জন। স্বতন্ত্র ২০ জন। মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন। নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। হিজড়া ১ হাজার ২৩২ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ৪২ হাজার ৭৭৯টি। ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০ জন প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট এসে পৌঁছেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ব্যালট গ্রহণ করেছেন ২ লাখ ৭০ হাজার ৩৮টি। দেশের বাইরে যারা ভোটার হয়েছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ৯৪ শতাংশ ও নারী ৬ শতাংশ। ১২৪টি দেশে ব্যালট পাঠানো হয়েছে। পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভারত থেকে আমাদের পোস্টাল ব্যালট সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

Comments

0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *