Monday, 16 February 2026 • 2:43 AM

এবার মানবদেহের ঘাম থেকে রোগ শনাক্ত করবে এআই?

ঘামের ভেতরে লুকিয়ে থাকে বিপুল জৈব তথ্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং আধুনিক সেন্সরের সাহায্যে সেই তথ্য ব্যবহার করে মানবদেহের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা পর্যবেক্ষণের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে দেখিয়েছে নতুন এক গবেষণা।

ঘাম সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া আক্রমণাত্মক নয়। এটি ব্যথাহীন ও সহজ। গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এটি রক্ত বা প্রস্রাব পরীক্ষার বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে। এ নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট নোরিজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিস্তারিত উঠে এসেছে।

এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘জার্নাল অফ ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যানালাইসিস’-এ। সেখানে গবেষকরা দেখিয়েছেন, ঘাম বিশ্লেষণের মাধ্যমে শরীরের নানা বায়োমার্কার শনাক্ত করা সম্ভব, যা ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে নতুন দিগন্ত খুলতে পারে।

‘ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি সিডনি’ বা ইউটিএস-এর গবেষক ড. ডায়ান বোর্ডিন বলেন, যারা এরইমধ্যে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের জন্য স্মার্টওয়াচ বা অন্যান্য পরিধেয় ডিভাইস ব্যবহার করেন, তাদের বেলায় ঘামনির্ভর এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে। তার মতে, এতে ব্যবহারকারীর শরীর থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব।

এরইমধ্যে বাজারে গ্যাটোরেডের মতো কিছু ঘাম পর্যবেক্ষণ ডিভাইস পাওয়া যায়। এসব ডিভাইস ঘামের পরিমাণ ও সোডিয়াম ক্ষয় বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিভিত্তিক হাইড্রেশনের পরামর্শ দেয়।

মাইক্রোফ্লুইডিক্স, স্ট্রেচেবল ইলেকট্রনিক্স এবং তারবিহীন যোগাযোগ প্রযুক্তির সাম্প্রতিক উন্নতির ফলে এখন পাতলা ও নমনীয় ঘাম সেন্সর তৈরি করা যাচ্ছে। ত্বকে লাগানো যায় এমন এসব প্যাচ ঘাম থেকে সময়োপযোগী নমুনা সংগ্রহ করতে সাহায্য করে।

এআই যুক্ত হওয়ায় এসব ডিভাইস নির্দিষ্ট বায়োমার্কার শনাক্ত করতে পারে এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখাতে পারে। ক্রীড়াবিদদের ইলেকট্রোলাইট ক্ষয় পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু করে রক্ত না নিয়েই ডায়াবেটিস রোগীদের গ্লুকোজের মাত্রা নজরে রাখার মতো কাজেও এর ব্যবহার সম্ভব বলে আশা করছেন গবেষকরা।

এখন পর্যন্ত ঘামকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা রোগ নির্ণয়ের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। তবে গবেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য পরিচর্যায় ঘাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষণায় উঠে এসেছে, ঘাম থেকে একসঙ্গে বহু ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বায়োমার্কার পরিমাপ করা যায় এবং সেই তথ্য তারবিহীনভাবে পাঠানো সম্ভব। ২০২৩ সালে এআই প্রযুক্তির উন্নতির ফলে ঘামের তথ্য বিশ্লেষণ আরও নির্ভুল হয়েছে, যা রোগ নির্ণয়কে আরও নির্ভরযোগ্য করতে পারে।

ইউটিএস-এর গবেষকরা অতিসংবেদনশীল মাইক্রোফ্লুইডিক ডিভাইস তৈরি করছেন, যা গ্লুকোজ ও কর্টিসোলের মতো অতি সামান্য বায়োমার্কারও শনাক্ত করতে পারে। এসব ডিভাইসের অনেকগুলো এখনও প্রোটোটাইপ পর্যায়ে থাকলেও এ নিয়ে বাণিজ্যিক আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।

ড. বোর্ডিন বলেন, ভবিষ্যতে এমন সময় আসতে পারে, যখন পরিধেয় ডিভাইস শরীরের স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত করতে সাহায্য করবে।

Comments

0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *