গ্রিনল্যান্ডে নিরাপত্তা জোরদারে একাট্টা ন্যাটো-ডেনমার্ক
আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো এবং ডেনমার্ক অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছেছে। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের ফলে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার ব্রাসেলসে নেটো মহাসচিব মার্ক রুত্তের সঙ্গে বৈঠক শেষে ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন জানান, উত্তরের এই হিমশীতল অঞ্চলে ন্যাটোর উপস্থিতি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। তিনি স্পষ্ট করেন, আর্কটিকের নিরাপত্তা রক্ষা করা কেবল ডেনমার্কের একার দায়িত্ব নয় বরং এটি পুরো ন্যাটো জোটের সামগ্রিক স্বার্থের বিষয়।
সাক্ষাৎ শেষে ফ্রেডেরিকসেন তার সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় উল্লেখ করেন, রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় অঞ্চলটিতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়ে দুই পক্ষই একমত হয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ন্যাটো প্রধানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এখন গ্রিনল্যান্ডে স্থায়ী ও পূর্ণ প্রবেশাধিকার পেয়েছে। ট্রাম্পের মতে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং অন্য কোনো শক্তির নিয়ন্ত্রণ ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সুসংহত করা প্রয়োজন।
যদিও বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল, তবে ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছেন তিনি সেখানে সামরিক শক্তি প্রয়োগের পক্ষপাতী নন। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও নেটো মিলে পুরো আর্কটিক অঞ্চলের জন্য একটি ভবিষ্যৎ চুক্তির রূপরেখা তৈরি করছে।
অন্যদিকে ডেনমার্ক সরকার শুরু থেকেই বলে আসছে যে, গ্রিনল্যান্ডের ওপর তাদের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই আলোচনার বিষয় হতে পারে না। তবে কৌশলগত অন্যান্য বিষয়ে তারা সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত। এই কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনে এক বৈঠকে মিলিত হয়ে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

Leave a Reply