যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে প্রথম হাজিরায় বড় আইনি বিতর্কের ইঙ্গিত দিয়েছেন ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। সোমবার নিউইয়র্কের আদালতে তিনি মাদক-সন্ত্রাসবাদ ও কোকেন পাচারের অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তিনি এখনো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট। তার এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের কৌঁসুলিদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
৬৩ বছর বয়সী মাদুরোর দাবি, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে দায়মুক্তি (রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বিচার থেকে সুরক্ষা) পাওয়ার অধিকারী। এই দাবি মানা হলে তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন। তারা বলছে, বিতর্কিত ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর মাদুরো আর বৈধ প্রেসিডেন্ট নন। ফলে তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের দায়মুক্তি পাওয়ার যোগ্য নন।
আদালতে মাদুরোর আইনজীবী ব্যারি পোলাক আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী মাদুরো ও তার স্ত্রীকে যেভাবে আটক করেছে, তা ‘অপহরণ’। তিনি এ বিষয়েও আইনি লড়াই চালাবেন বলে জানান।
এই মামলার মূল প্রশ্ন হলো—মাদুরো কি আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় রাষ্ট্রপ্রধানের দায়মুক্তি পাবেন। মার্কিন বিচার বিভাগ বলছে, মাদুরো দীর্ঘদিন ধরে একটি মাদক-সন্ত্রাসবাদী চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে এই কাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি নির্ভর করবে অভিযোগে উল্লেখ করা কাজগুলো তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করেছেন কি না। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, শেষ পর্যন্ত মার্কিন কৌঁসুলিরাই এই আইনি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকতে পারেন।
এর আগে পানামার সাবেক শাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগা একই ধরনের দায়মুক্তির দাবি করেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত সে দাবি নাকচ করেছিল। মাদুরোর ক্ষেত্রেও দায়মুক্তির প্রশ্নটি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের দিকে গড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
