ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করায় দেশটিতে প্রায় সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ইরানের ইন্টারনেট কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
একই সঙ্গে রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসান দাবিতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তেহরানের একাধিক এলাকায় বড় জমায়েত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ‘স্বাধীনতা, স্বাধীনতা’ ও ‘খামেনির পতন চাই’ স্লোগান দেন। বিক্ষোভে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশ নেন। আগে তুলনামূলক শান্ত থাকা অভিজাত এলাকাতেও এবার আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।
তেহরানের পাশাপাশি মাশহাদ, ইসফাহান, শিরাজ, বুশেহর ও কারাজ শহরেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সরকারি ভবন ও যানবাহনে আগুন দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। রাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কোথাও কোথাও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কারাজ শহরে গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে ভিডিওতে দাবি করা হলেও গুলি কারা ছুড়েছে তা নিশ্চিত নয়।
এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দেশটির ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, বিক্ষোভ দমাতে এবং তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতেই ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সরকার দাবি করছে, বিদেশি শক্তি এই আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছে। তবে বিরোধী গোষ্ঠীগুলো এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সহিংসতায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। কয়েকটি সংগঠন নিহতের সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়েছে বলে দাবি করছে। বহু মানুষ আহত হয়েছেন। গ্রেফতার করা হয়েছে অনেককে।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক দমননীতি এই বিক্ষোভের পেছনে প্রধান কারণ। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে ইরানে আরও বড় অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
