♦ মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই শেষ কাল ♦ বাতিল হলে আপিলের সুযোগ ♦ ঢাকার ২০ আসনে বাছাই আজ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই শেষ হবে কাল। এরপর বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ৩০ ডিসেম্বর বাছাই শুরু হয়েছে, চলবে আগামীকাল পর্যন্ত। তবে যাচাইবাছাইয়ে কারও প্রার্থিতা বাতিল হলে তিনি রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করতে পারবেন ৫ থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
আপিল নিষ্পত্তি হবে ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। নির্বাচনি প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।
এদিকে তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনসংক্রান্ত প্রতিটি ধাপ আইন ও আচরণবিধি মেনে সম্পন্ন করার ওপর জোর দিয়েছে ইসি। আচরণবিধি কোনোভাবেই শিথিল করা যাবে না, এমন নির্দেশনা দিয়ে মাঠ প্রশাসন, নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। অন্যদিকে ঢাকা জেলার ২০ আসনে মনোনয়নপত্র বাছাই করে বৈধ বা বাতিলের বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার আজ সিদ্ধান্ত দেবেন। দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ২৩৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।ইসি সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫১টি দলের ২ হাজার ৯০ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ৪৭৮ জন। সব মিলিয়ে ৩০০ আসনে আড়াই সহস্রাধিক মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এখন চলছে যাচাইবাছাই, যা শেষ হবে ৪ জানুয়ারি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘মনোনয়নপত্র দাখিলের পর যাচাইবাছাই শুরু হয়েছে।
এখন থেকে আইন অনুযায়ী ধাপে ধাপে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। আচরণবিধি প্রতিপালনে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। ’ইসি কমিশনার বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা হয়েছে, এখন বাছাই চলছে। এ সময় আচরণবিধি যাতে শতভাগ মানা হয়, সে বিষয়ে মাঠ প্রশাসনকে আমরা নিয়মিত তাগিদ দিচ্ছি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো শৈথিল্যের সুযোগ নেই। ’তিনি জানান, তফসিল ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত রাস্তাঘাটে বড় ধরনের পোস্টার, ব্যানার বা বিলবোর্ড চোখে পড়ছে না, যা ইতিবাচক দিক। রাজনৈতিক দলগুলোও নির্বাচন কমিশনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমানে ইসির নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫৯। আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।
ঢাকা জেলার ২০ আসনে মনোনয়নপত্র বাছাই ও সিদ্ধান্ত আজ : ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা জেলার ২০ আসনে মনোনয়নপত্র বাছাই করে বৈধ বা বাতিলের বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার আজ সিদ্ধান্ত দেবেন। দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ২৩৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।১২ ফেব্রুয়ারির এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর; ৩০ ডিসেম্বর বাছাই শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামীকাল পর্যন্ত। এরই মধ্যে যাঁরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদের হলফনামার তথ্যসহ সার্বিক বিবরণী গুছিয়ে রেখেছেন রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা। প্রার্থীর যোগ্যতা-অযোগ্যতাসংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাছাই করে রিটার্নিং অফিসার বৈধ বা বাতিলের সিদ্ধান্ত দেবেন। ঢাকা জেলায় ২০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর ১৩টিতে বিভাগীয় কমিশনার রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন এবং পাঁচটি আসনের রিটার্নিং অফিসার হচ্ছেন জেলা প্রশাসক। আর দুটি আসনের রিটার্নিং অফিসার ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা।জানতে চাইলে রিটার্নিং অফিসার, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী জানান, সেগুনবাগিচায় রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে শনিবার (আজ) মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। ঢাকা-১৩ ও ১৫ আসনের রিটার্নিং অফিসার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী জানান, এ দুটি আসনে ২০টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-১৩ আসনে ১১টি এবং ঢাকা-১৫ আসনে ৯টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। আজ মনোনয়নপত্র বাছাই হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শনিবার (আজ) সকাল সাড়ে ১০টায় বাছাই করা হবে আগারগাঁওস্থ নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সম্মেলনকক্ষে। যাচাইবাছাইয়ের সময় প্রার্থী নিজে, তাঁর প্রস্তাবক ও সমর্থক এবং প্রার্থী চাইলে নিযুক্ত আইনজীবীসহ সর্বোচ্চ পাঁচজন উপস্থিত থাকতে পারবেন। যাচাইবাছাই শেষে কোন মনোনয়নপত্র বৈধ এবং কোনটি বাতিল, সে বিষয়ে প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া হবে। ’
মনোনয়নপত্র বাতিল হলে আপিলের সুযোগ : রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুচ আলী জানান, যাচাইবাছাইয়ে যেসব মনোনয়নপত্র বাতিল হবে, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন। আপিল নিষ্পত্তির পর কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। মনোনয়নপত্র বাতিলের বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ১২ নম্বর অনুচ্ছেদে বিষয়গুলো স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। ঋণখেলাপি হওয়া, আয়করসংক্রান্ত জটিলতা, মনোনয়নপত্র যথাযথভাবে পূরণ না করা, আইনগত যোগ্যতার ঘাটতি এসব কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল হতে পারে। দলীয় প্রার্থী হতে দলীয় প্রত্যয়নের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে নির্বাচনি এলাকার ১% ভোটারের সমর্থন বা সাবেক সংসদ সদস্য হলে চলবে। সমর্থন তালিকা থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে বাছাই করে সঠিকতা যাচাই করে রিটার্নিং অফিসার সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন।
