Wednesday, 18 February 2026 • 6:13 AM

ইরানে বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিলে ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিতে শুরু করে তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে। তবে, সেই ব্যবস্থাগুলো প্রকৃতপক্ষে কী হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

এদিকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের এই সতর্কবার্তাকে ‘সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত’ বলে বর্ণনা করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর জানিয়েছে, এই দমন-পীড়নের ফলে বিক্ষোভ চলাকালে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যা ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য এখন পর্যন্ত অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে।

ইরানের জাতিসংঘ মিশন এক্স-এ এক পোস্ট জানায়, ওয়াশিংটনের এই ‘কৌশল’ আবারও ব্যর্থ হবে। ওই পোস্টে বলা হয়েছে, ‘ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কল্পনা ও নীতির ভিত্তি হলো শাসন পরিবর্তন, যেখানে নিষেধাজ্ঞা, হুমকি, পরিকল্পিত অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলাকে কার্যপদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করে সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরি করা হয়।’

ইরানি কর্তপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে, বৃহস্পতিবার থেকে দেশজুড়ে রাতভর ধারাবাহিক গণবিক্ষোভের পর তারা দেশের ওপর পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারকে অভিযুক্ত করে বলেছে যে, ইরান বিক্ষোভকারীদের গুলি করে হত্যা করেছে এবং এখন পাঁচ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা ইন্টারনেট বন্ধের মাধ্যমে দমন-পীড়নের প্রকৃত ঘটনা আড়াল করছে।

এর আগে ট্রাম্প ইরানে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘সাহায্য আসছে’। সিবিএস নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া শুরু করে, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

তেহরানের প্রসিকিউটররা বলেছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক বিক্ষোভের জন্য গ্রেপ্তার হওয়া কিছু সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ‘‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।  একই সঙ্গে বিক্ষোভে যারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন, তারা মৃত্যুদণ্ডের দাবি করে মামলা দায়ের করবে কর্তৃপক্ষ।

Comments

0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *