Wednesday, 18 February 2026 • 6:13 AM

মধু যে কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

শুধু দেহের জন্য নয় মনের স্বাস্থ্যেও উপকারী প্রভাব ফেলে মধু।

মন খারাপ, চাপ বা উদ্বেগের সময় অনেকেরই ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়ার বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়। অথচ এই সময়েই সঠিক খাবার মানসিক অবস্থার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সাধারণত মেজাজ ভালো রাখতে তাজা মাছ, ফল বা সবজির উপকারিতা রয়েছে।

তবে গবেষণা বলছে, প্রাকৃতিক একটি মিষ্টি উপাদানও মন ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। সেটি হলো মধু।

শুধু স্বাদে মিষ্টি বলেই নয়, মধুর ভেতরে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান ও পুষ্টিগুণ মস্তিষ্ক ও আবেগের স্বাস্থ্যের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

রক্তে শর্করার ভারসাম্য ও মানসিক চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের পুষ্টিবিদ ও ‘সিম্পলি ওয়েলনেস’-এর প্রতিষ্ঠাতা সামান্থা পিটার্সন রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “মধু প্রাকৃতিক শর্করার উৎস। এতে মূলত গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ থাকে, যা শরীরকে ধীরে শক্তি জোগায়।”

রক্তে শর্করা কমে গেলে শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়। এই প্রক্রিয়া বারবার ঘটলে খিটখিটে মেজাজ, অকারণ উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা ও মানসিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

মধু নিয়মিত ও পরিমিতভাবে খেলে রক্তে শর্করার ওঠানামা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে, যা মানসিক চাপ সামলাতে সাহায্য করে।

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও মনের সম্পর্ক

অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সঙ্গে মনের সম্পর্ক রয়েছে।

সামান্থা পিটার্সনের মতে, “মধুর ভেতরে থাকা প্রিবায়োটিক উপাদান উপকারী অন্ত্রজ-জীবাণুকে পুষ্টি জোগায়। এই জীবাণুগুলো শরীরে সেরোটোনিন নামের এক ধরনের রাসায়নিক উৎপাদনের জন্য ভালো। যাকে সাধারণভাবে ‘ভালো লাগার অনুভূতি’ তৈরি করার উপাদান বলা হয়।”

অন্ত্র ও মস্তিষ্ক একে অপরের সঙ্গে সারাক্ষণ যোগাযোগ করে। তাই অন্ত্রের ভারসাম্য ঠিক থাকলে মানসিক অবস্থাও তুলনামূলকভাবে স্থির থাকে।

মধুর হালকা জীবাণুনাশক গুণ অন্ত্রের ভেতরের ক্ষতিকর জীবাণু নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।

অক্সিডেটিভ চাপ কমাতে মধুর ভূমিকা

মানসিক ক্লান্তি, মন খারাপ বা একটানা অবসাদী-ভাবের পেছনে শরীরের ভেতরের অক্সিডেটিভ চাপও কারণ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পুষ্টিবিদ অ্যালিসন সুইগার্ড মন্তব্য করেন, “মধুতে পলিফেনল ও ফ্লাভানয়েড নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এগুলো শরীরের কোষ, বিশেষ করে মস্তিষ্কের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।”

অক্সিডেটিভ চাপ মস্তিষ্কের স্নায়ু সংকেত আদান–প্রদান ব্যাহত করতে পারে। ফলে মন খারাপ, মানসিক ঝাপসা-ভাব বা অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা দেয়।

অন্যদিকে মধুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এই ক্ষতিকর প্রক্রিয়া কমাতে সাহায্য করে।

প্রদাহ কমিয়ে মানসিক ভারসাম্য

দীর্ঘদিন ধরে চলা হালকা মাত্রার প্রদাহ এখন মানসিক রোগের সঙ্গেও জড়িত বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

অ্যালিসন সুইগার্ডের মতে, “দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বিষণ্নতা ও উদ্বেগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। মধুর ভেতরে থাকা অনেক উপাদান প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। প্রদাহ কমলে মস্তিষ্কে সেরোটোনিনের স্বাভাবিক বিপাক প্রক্রিয়া ঠিক থাকে এবং শরীরের স্ট্রেস প্রতিক্রিয়াও নিয়ন্ত্রণে থাকে। এর ফলে আবেগের ওঠানামা তুলনামূলকভাবে কম হয়।”

কতটা মধু খাওয়া যায়?

মধু উপকারী হলেও অতিরিক্ত খাওয়া ভালো নয়।

সামান্থা পিটার্সন মনে করিয়ে দেন- মধু শেষ পর্যন্ত শর্করার-ই একটি উৎস। তাই দিনে এক থেকে দুই চা-চামচের বেশি না খাওয়াই ভালো।

সবচেয়ে ভালো হয় যদি চিনি বা পরিশোধিত মিষ্টির বদলে মধু ব্যবহার করা যায়।

আলাদা করে অতিরিক্ত মধু না খেয়ে দৈনন্দিন খাবারের সঙ্গে পরিমিতভাবে যুক্ত করাই উপকারী হবে।

যেভাবে খেলে উপকার বেশি

অ্যালিসন সুইগার্ড বলছেন, “মধু যদি প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও আঁশযুক্ত খাবারের সঙ্গে খাওয়া যায়, তাহলে রক্তে শর্করা আরও স্থিতিশীল থাকে। এতে শক্তি ও মেজাজ দুটোই দীর্ঘ সময় ভালো থাকে।”

দই, ওটস, ফলের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এতে একদিকে স্বাদ বাড়ে, অন্যদিকে মানসিক প্রশান্তিও মেলে।

মধুর মানের গুরুত্ব

সব মধু এক রকম নয়।

সামান্থা পিটার্সনের মতে, “কম প্রক্রিয়াজাত বা কাঁচা মধুতে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও এনজাইম বেশি থাকে।”

কেনার সময় উপাদানের তালিকায় যেন শুধু মধুর নামই থাকে, সেদিকে খেয়াল দেওয়া জরুরি। সময়ের সঙ্গে মধু জমে গেলেও সেটি নষ্ট হয়ে যায় না।

হালকা গরম পানির পাত্রে বোতল রেখে, আবার তরল করা যায়।

Comments

0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *